টানা ৭ দিন আল্লাহর কাছে কেঁদে একটি জিনিস চেয়েছিলেন। সপ্তম দিনে যে ফোনটি এলো, সেটি তাঁর পুরো জীবন বদলে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াল!
একজন ভাইয়ের জীবনের ঘটনা বলছি। তাঁর পরিচয় গোপন রাখছি।
আমি একটি ছোট দোকানে কাজ করতাম। মাসে বেতন পেতাম ১২ হাজার টাকা। বৃদ্ধ বাবা, অসুস্থ মা আর স্ত্রীকে নিয়ে আমার সংসার। কোনোভাবে দিন চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন দোকানের মালিক জানিয়ে দিলেন, আর কর্মচারী রাখা সম্ভব নয়। পরদিন থেকে আমার কাজ বন্ধ।
ঘরভাড়া বাকি ছিল, মায়ের ওষুধ কেনার টাকাও ছিল না। স্ত্রীর সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও রাতে একা হলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারতাম না। একদিন মায়ের ওষুধ কিনতে গিয়ে টাকার অভাবে পুরো ওষুধ নিতে পারতাম না। সেদিন বাড়ি ফিরে নামাজে দাঁড়িয়ে কেঁদে বললাম
হে আল্লাহ, আমি কারও কাছে হাত পাততে চাই না। আমার বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন। আমি আর পারছি না, আল্লাহ! সেদিন থেকে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের যত্ন নিতে, নিয়মিত ইস্তিগফার করতে এবং আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করতে শুরু করলাম। পাশাপাশি কাজও খুঁজতে লাগলাম।
ছয় দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু কোনো কাজ পেলআম না।
সপ্তম দিনের সকালে হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠল। ফোন করেছিলেন একজন পুরোনো পরিচিত ব্যক্তি। তিনি আমার সততা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা জানতেন। তিনি বললেন, একজন বিশ্বস্ত লোক দরকার। তুমি চাইলে কাজটা করতে পারো। কথা এগোল, কাজও হয়ে গেল। বেতন আগের চেয়ে ভালো, ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগও আছে।
ভাইটি বলেছিলেন, আমি আল্লাহর কাছে শুধু একটা চাকরি চেয়েছিলাম। কিন্তু যে মানুষটি আমার জন্য কাজের ব্যবস্থা করলেন, তিনি যে আমাকে মনে রেখেছেন, সেটাও তো আমার কল্পনায় ছিল না!
এই ঘটনা আমাদের শেখায়, রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে, পাশাপাশি চেষ্টা ও সততাও ধরে রাখতে হবে।
তবে সাত দিনের মধ্যে রিজিক বেড়ে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আল্লাহ কখন, কীভাবে কল্যাণের ব্যবস্থা করবেন, তা তিনিই ভালো জানেন।
হাল ছাড়বেন না। দোয়া করতে থাকুন, চেষ্টা চালিয়ে যান, হয়তো এমন কোনো দরজা খুলবে, যেটার কথা আজ আপনি ভাবতেও পারছেন না। 🤲
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটা আপনিই করুন।